ইসমাইল খান টিটু :—--
সৌদি আরবে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার প্রবাসী মো. জসিম উদ্দিনের মরদেহ অবশেষে দেশে ফিরেছে। দীর্ঘ অনিশ্চয়তা ও নানা জটিলতা কাটিয়ে ৩১ অক্টোবর তাঁর মরদেহ বাংলাদেশে পৌঁছায়। শনিবার বাদ আছর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়েছে।
জসিমের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর, যুব অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মর্তুজা মাহবুব এবং প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী আল আমিন।
জানা যায়, সৌদি আরবপ্রবাসী চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ঘাসিরচর গ্রামের বাসিন্দা মো. জসিম উদ্দিন গত ১৯ সেপ্টেম্বর প্রায় চার লাখ টাকা পাঠানোর উদ্দেশ্যে এক সহকর্মীর সঙ্গে বের হন। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। কয়েক দিন পর সৌদি আরবের আল কাসিম এলাকার একটি মরুভূমি থেকে বালুচাপা অবস্থায় তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, জসিমকে হত্যার পর তাঁর মরদেহ বালুর নিচে চাপা দেওয়া হয়। পরে তাঁর মোবাইল ফোন ব্যবহার করে স্ত্রী ও স্বজনদের কাছে দেড় লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। নিহত জসিম আল কাসিমের আল গাম্মাস এলাকায় একটি মাজরায় (খামার) শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এ ঘটনায় মতলব উত্তর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। পাশাপাশি সৌদি আরবের পুলিশ এ ঘটনায় সাব্বির নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
জসিমের মৃত্যুর পর তাঁর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। একপর্যায়ে সাংবাদিক শামীম মিয়াজীর মাধ্যমে যুব অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মর্তুজা মাহবুবের সঙ্গে যোগাযোগ করেন পরিবারের সদস্যরা। পরে মর্তুজা মাহবুবের সহযোগিতায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। প্রতিমন্ত্রীর আন্তরিক উদ্যোগ, ব্যক্তিগত সহকারী আল আমিনের সহযোগিতা এবং সংশ্লিষ্টদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় অবশেষে জসিমের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়।
যুব অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মর্তুজা মাহবুব বলেন, “আমার এলাকার একজন প্রবাসী বিদেশের মাটিতে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। তাঁর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব ছিল। সেই দায়িত্ববোধ থেকেই প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তিনি আন্তরিকভাবে উদ্যোগ নিয়ে দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। বিষয়টি অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকলেও শেষ পর্যন্ত আমরা সফল হয়েছি।”
এদিকে জসিমের পরিবারের সদস্যরা মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সহযোগিতার জন্য সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাঁরা বিশেষভাবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর, তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী আল আমিন এবং যুব অধিকার পরিষদের নেতা মর্তুজা মাহবুবকে ধন্যবাদ জানান।
নিহত মো. জসিম উদ্দিন মতলব উত্তর উপজেলার ঘাসিরচর গ্রামের আইয়ুব আলীর ছেলে। শনিবার বাদ আছর জানাজা শেষে তাঁকে দাফন করা হয়। জানাজা শেষে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ভবিষ্যতেও তাঁদের পাশে থাকার ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
আপনার মতামত লিখুন