খবরের দর্পন

মূল পাতা

সারাদেশ

মতলবে মা ইলিশ রক্ষায় ৩৭ অভিযান, ১৯ জনের কারাদণ্ড লজিস্টিক সংকটে মা ইলিশ রক্ষা অভিযান কিছুটা ব্যাহত: সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা 

প্রকাশ : ২৫ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
মতলবে মা ইলিশ রক্ষায় ৩৭ অভিযান, ১৯ জনের কারাদণ্ড লজিস্টিক সংকটে মা ইলিশ রক্ষা অভিযান কিছুটা ব্যাহত: সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা 

ইসমাইল খান টিটু:----

মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় প্রশাসনের ধারাবাহিক অভিযান চলছে। গত ৮ অক্টোবর থেকে পরিচালিত অভিযানে এ পর্যন্ত ৩৭টি অভিযান ও সাতটি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে ১৭টি মামলা, ১৯ জনের কারাদণ্ড, ছয় হাজার টাকা জরিমানা এবং প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়েছে।

এ ছাড়া মাছ ধরার সাতটি নৌকা জব্দ করেছে প্রশাসন। অভিযানকালে প্রায় ২১৫ কেজি ইলিশ মাছও জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা মাছ এতিম ও দুস্থদের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকেলে মতলবের মেঘনা নদীতে মা ইলিশ রক্ষা অভিযান চলাকালে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান মতলব উত্তর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা স্বপন চন্দ্র দে।

অভিযানে অপ্রাপ্তবয়স্কদের সম্পৃক্ততা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আটক জেলেদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক অপ্রাপ্তবয়স্ক। অনেক নৌকায় চারজন আটক হলে তিনজনই অপ্রাপ্তবয়স্ক পাওয়া যাচ্ছে। তাদের পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দিতে হচ্ছে। এমনকি ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষে পড়ুয়া এক শিক্ষার্থীকেও মাছ ধরতে গিয়ে আটক করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, নদীর পাশাপাশি মাছের আড়তেও অভিযান চালানো হচ্ছে। শনিবার সকালে মোহনপুর ঘাট ও নয়াকান্দি এলাকা থেকে প্রায় ১০ কেজি ইলিশ জব্দ করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

অভিযানের সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে স্বপন চন্দ্র দে বলেন, মতলব উত্তরে মেঘনা নদীর বিস্তীর্ণ এলাকায় অভিযান পরিচালনায় স্পিডবোটের সংকট, পর্যাপ্ত জনবল ও লজিস্টিক সহায়তার অভাব রয়েছে। অভিযানের সময় জেলেরা দ্রুতগতির নৌযানে পালিয়ে খাল ও চরে আশ্রয় নেয়। ফলে তাদের আটক করা কঠিন হয়ে পড়ে। পর্যাপ্ত বরাদ্দ ও সরঞ্জাম ছাড়া কার্যকর অভিযান পরিচালনা করা কষ্টসাধ্য।

মৎস্য কর্মকর্তা জানান, উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য অধিদপ্তর ও নৌ পুলিশের সমন্বয়ে অভিযান চলছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়মিত অভিযানে অংশ নিচ্ছেন এবং সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজ রাখছেন।

তিনি সতর্ক করে বলেন, মৎস্য বিভাগের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের প্রশ্রয় দেওয়া বা প্রভাব খাটানোর অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিষেধাজ্ঞা চলাকালে মা ইলিশ রক্ষায় সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এসময় নৌ পুলিশের সদস্য ও  মৎস্য অফিসের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। 

ছবি ক্যাপশন: মতলবের মেঘনা নদীতে মা ইলিশ রক্ষা অভিযানে অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ করছেন মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা।

আপনার মতামত লিখুন

মতলবে মা ইলিশ রক্ষায় ৩৭ অভিযান, ১৯ জনের কারাদণ্ড লজিস্টিক সংকটে মা ইলিশ রক্ষা অভিযান কিছুটা ব্যাহত: সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা 
0:00 0:00
1.0x
খবরের দর্পন

রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬


মতলবে মা ইলিশ রক্ষায় ৩৭ অভিযান, ১৯ জনের কারাদণ্ড লজিস্টিক সংকটে মা ইলিশ রক্ষা অভিযান কিছুটা ব্যাহত: সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা 

প্রকাশের তারিখ : ২৫ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ইসমাইল খান টিটু:----

মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় প্রশাসনের ধারাবাহিক অভিযান চলছে। গত ৮ অক্টোবর থেকে পরিচালিত অভিযানে এ পর্যন্ত ৩৭টি অভিযান ও সাতটি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে ১৭টি মামলা, ১৯ জনের কারাদণ্ড, ছয় হাজার টাকা জরিমানা এবং প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়েছে।


এ ছাড়া মাছ ধরার সাতটি নৌকা জব্দ করেছে প্রশাসন। অভিযানকালে প্রায় ২১৫ কেজি ইলিশ মাছও জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা মাছ এতিম ও দুস্থদের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে।


শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকেলে মতলবের মেঘনা নদীতে মা ইলিশ রক্ষা অভিযান চলাকালে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান মতলব উত্তর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা স্বপন চন্দ্র দে।


অভিযানে অপ্রাপ্তবয়স্কদের সম্পৃক্ততা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আটক জেলেদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক অপ্রাপ্তবয়স্ক। অনেক নৌকায় চারজন আটক হলে তিনজনই অপ্রাপ্তবয়স্ক পাওয়া যাচ্ছে। তাদের পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দিতে হচ্ছে। এমনকি ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষে পড়ুয়া এক শিক্ষার্থীকেও মাছ ধরতে গিয়ে আটক করা হয়েছে।


তিনি আরও বলেন, নদীর পাশাপাশি মাছের আড়তেও অভিযান চালানো হচ্ছে। শনিবার সকালে মোহনপুর ঘাট ও নয়াকান্দি এলাকা থেকে প্রায় ১০ কেজি ইলিশ জব্দ করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।


অভিযানের সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে স্বপন চন্দ্র দে বলেন, মতলব উত্তরে মেঘনা নদীর বিস্তীর্ণ এলাকায় অভিযান পরিচালনায় স্পিডবোটের সংকট, পর্যাপ্ত জনবল ও লজিস্টিক সহায়তার অভাব রয়েছে। অভিযানের সময় জেলেরা দ্রুতগতির নৌযানে পালিয়ে খাল ও চরে আশ্রয় নেয়। ফলে তাদের আটক করা কঠিন হয়ে পড়ে। পর্যাপ্ত বরাদ্দ ও সরঞ্জাম ছাড়া কার্যকর অভিযান পরিচালনা করা কষ্টসাধ্য।


মৎস্য কর্মকর্তা জানান, উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য অধিদপ্তর ও নৌ পুলিশের সমন্বয়ে অভিযান চলছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়মিত অভিযানে অংশ নিচ্ছেন এবং সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজ রাখছেন।


তিনি সতর্ক করে বলেন, মৎস্য বিভাগের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের প্রশ্রয় দেওয়া বা প্রভাব খাটানোর অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিষেধাজ্ঞা চলাকালে মা ইলিশ রক্ষায় সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এসময় নৌ পুলিশের সদস্য ও  মৎস্য অফিসের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। 

ছবি ক্যাপশন: মতলবের মেঘনা নদীতে মা ইলিশ রক্ষা অভিযানে অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ করছেন মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা।


খবরের দর্পন

সম্পাদক মন্ডলী সভাপতি
এম ইলিয়াস আলী
উপদেষ্টা
ফারুক আহমেদ, মমিনুল ইসলাম, সাবিনা ইয়াছমিন
সম্পাদক
ইসমাইল খান টিটু
প্রকাশক
জাকির হোসেন বাদশা
নির্বাহী সম্পাদক
সুমন আহমেদ
বার্তা সম্পাদক:
পারভেজ পাটোয়ারী

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত খবরের দর্পন