খবরের দর্পন

মূল পাতা

সারাদেশ

প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় স্কুলে ঢুকে শিশুকে পিটিয়ে দাঁত উপড়ে দিল বখাটে

প্রকাশ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় স্কুলে ঢুকে শিশুকে পিটিয়ে দাঁত উপড়ে দিল বখাটে

নিজস্ব প্রতিনিধি:-----

বরগুনার বেতাগীতে প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় পঞ্চম শ্রেণির ১০ বছরের এক ছাত্রীকে বিদ্যালয়ে ঢুকে নির্মমভাবে মারধরের অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। হামলায় শিশুটির তিনটি দাঁত উপড়ে গেছে এবং দুটি দাঁত ভেঙে গেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটি বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

গত সোমবার বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার সরিষামুড়ি ইউনিয়নের গাবতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় সোমবার রাতেই শিশুটির মা বাদী হয়ে বেতাগী থানায় মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ প্রধান আসামি মো. ফয়সাল মৃধা (২২), তার ছোট ভাই মো. সিফাত মৃধা (২০) এবং মা মোসা. শিরিন বেগমকে গ্রেপ্তার করেছে। মঙ্গলবার তাদের বরগুনা আদালতে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা গাবতলী গ্রামের বাসিন্দা।

শিশুটির স্বজন ও স্থানীয়দের অভিযোগ, ফয়সাল মৃধা বেশ কিছুদিন ধরে বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসার পথে শিশুটির পথ আটকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। এতে রাজি না হওয়ায় তাকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত ও ভয়ভীতি দেখানো হয়।

পরিবারের অভিযোগ, গত ১৯ সেপ্টেম্বর শিশুটি বাড়ির বাইরে থাকা শৌচাগারে গেলে ফয়সাল উঁকি দিয়ে তার শরীরে হাত দেওয়ার চেষ্টা করে। শিশুটির চিৎকার শুনে স্বজনেরা এগিয়ে এলে ফয়সাল পালিয়ে যায়।

পরে শিশুটির মা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তবে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তির উপস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে সালিশ বসে।

পরিবারের দাবি, সালিশের ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ফয়সাল শিশুটিকে মারধরের হুমকি দেয়। নিরাপত্তার কারণে এরপর মেয়েটিকে বিদ্যালয়ে পাঠানো বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে সোমবার এক শিক্ষক তাকে বিদ্যালয়ে নিয়ে যান।

বিদ্যালয়ে ঢুকেই হামলা

অভিযোগ রয়েছে, সোমবার বিকেলে বিদ্যালয়ে ঢুকে ফয়সাল শিশুটির ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এলোপাতাড়ি চড়-লাথি মারতে থাকে তাকে। একপর্যায়ে মুখে লাথি মারলে শিশুটির তিনটি দাঁত উপড়ে যায় এবং দুটি দাঁত ভেঙে যায়।

পরে শিক্ষক ও স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের মাঠে বসে শিশুটি চিৎকার করে কাঁদছে। তার মুখ থেকে রক্ত ঝরছে। মাঠের একাংশেও রক্তের দাগ দেখা যায়।

গাবতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলমগীর হোসেন অভিযোগ করেন, প্রায় তিন বছর ধরে ফয়সাল বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। কয়েকজন শিক্ষার্থীর শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে রয়েছে বলে জানান তিনি।

প্রধান শিক্ষক বলেন, সোমবার বিকেল ৪টার দিকে হঠাৎ বিদ্যালয়ে এসে ফয়সাল ওই শিশুটিকে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। এতে তার কয়েকটি দাঁত উপড়ে যায়। পরে শিক্ষকরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

বেতাগী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হারুন-অর-রশীদ হাওলাদার জানান, শিশুটির ওপর হামলার পরপরই পুলিশ ফয়সালের মা শিরিন বেগমকে আটক করে। পরে শিশুটির মা মামলা করলে ফয়সাল ও তার ছোট ভাই সিফাত মৃধাকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

ওসি জানান, গ্রেপ্তার তিনজনকে মঙ্গলবার বরগুনা আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। শিশু শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

আপনার মতামত লিখুন

প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় স্কুলে ঢুকে শিশুকে পিটিয়ে দাঁত উপড়ে দিল বখাটে
0:00 0:00
1.0x
খবরের দর্পন

বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় স্কুলে ঢুকে শিশুকে পিটিয়ে দাঁত উপড়ে দিল বখাটে

প্রকাশের তারিখ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

নিজস্ব প্রতিনিধি:-----

বরগুনার বেতাগীতে প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় পঞ্চম শ্রেণির ১০ বছরের এক ছাত্রীকে বিদ্যালয়ে ঢুকে নির্মমভাবে মারধরের অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। হামলায় শিশুটির তিনটি দাঁত উপড়ে গেছে এবং দুটি দাঁত ভেঙে গেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটি বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

গত সোমবার বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার সরিষামুড়ি ইউনিয়নের গাবতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় সোমবার রাতেই শিশুটির মা বাদী হয়ে বেতাগী থানায় মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ প্রধান আসামি মো. ফয়সাল মৃধা (২২), তার ছোট ভাই মো. সিফাত মৃধা (২০) এবং মা মোসা. শিরিন বেগমকে গ্রেপ্তার করেছে। মঙ্গলবার তাদের বরগুনা আদালতে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা গাবতলী গ্রামের বাসিন্দা।

শিশুটির স্বজন ও স্থানীয়দের অভিযোগ, ফয়সাল মৃধা বেশ কিছুদিন ধরে বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসার পথে শিশুটির পথ আটকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। এতে রাজি না হওয়ায় তাকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত ও ভয়ভীতি দেখানো হয়।

পরিবারের অভিযোগ, গত ১৯ সেপ্টেম্বর শিশুটি বাড়ির বাইরে থাকা শৌচাগারে গেলে ফয়সাল উঁকি দিয়ে তার শরীরে হাত দেওয়ার চেষ্টা করে। শিশুটির চিৎকার শুনে স্বজনেরা এগিয়ে এলে ফয়সাল পালিয়ে যায়।

পরে শিশুটির মা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তবে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তির উপস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে সালিশ বসে।

পরিবারের দাবি, সালিশের ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ফয়সাল শিশুটিকে মারধরের হুমকি দেয়। নিরাপত্তার কারণে এরপর মেয়েটিকে বিদ্যালয়ে পাঠানো বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে সোমবার এক শিক্ষক তাকে বিদ্যালয়ে নিয়ে যান।

বিদ্যালয়ে ঢুকেই হামলা

অভিযোগ রয়েছে, সোমবার বিকেলে বিদ্যালয়ে ঢুকে ফয়সাল শিশুটির ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এলোপাতাড়ি চড়-লাথি মারতে থাকে তাকে। একপর্যায়ে মুখে লাথি মারলে শিশুটির তিনটি দাঁত উপড়ে যায় এবং দুটি দাঁত ভেঙে যায়।

পরে শিক্ষক ও স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের মাঠে বসে শিশুটি চিৎকার করে কাঁদছে। তার মুখ থেকে রক্ত ঝরছে। মাঠের একাংশেও রক্তের দাগ দেখা যায়।

গাবতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলমগীর হোসেন অভিযোগ করেন, প্রায় তিন বছর ধরে ফয়সাল বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। কয়েকজন শিক্ষার্থীর শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে রয়েছে বলে জানান তিনি।

প্রধান শিক্ষক বলেন, সোমবার বিকেল ৪টার দিকে হঠাৎ বিদ্যালয়ে এসে ফয়সাল ওই শিশুটিকে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। এতে তার কয়েকটি দাঁত উপড়ে যায়। পরে শিক্ষকরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

বেতাগী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হারুন-অর-রশীদ হাওলাদার জানান, শিশুটির ওপর হামলার পরপরই পুলিশ ফয়সালের মা শিরিন বেগমকে আটক করে। পরে শিশুটির মা মামলা করলে ফয়সাল ও তার ছোট ভাই সিফাত মৃধাকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

ওসি জানান, গ্রেপ্তার তিনজনকে মঙ্গলবার বরগুনা আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। শিশু শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।


খবরের দর্পন

সম্পাদক মন্ডলী সভাপতি
এম ইলিয়াস আলী
উপদেষ্টা
ফারুক আহমেদ, মমিনুল ইসলাম, সাবিনা ইয়াছমিন
সম্পাদক
ইসমাইল খান টিটু
প্রকাশক
জাকির হোসেন বাদশা
নির্বাহী সম্পাদক
সুমন আহমেদ
বার্তা সম্পাদক:
পারভেজ পাটোয়ারী

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত খবরের দর্পন