প্রিন্ট এর তারিখ : ৩০ আগস্ট ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৯ আগস্ট ২০২৬
মতলব উত্তরে লেয়ার ফার্মে ডাকাতি, অফিস ভাঙচুর-লুট
||
সুমন আহমেদ :---মতলব উত্তর উপজেলার সাদুল্ল্যাপুর ইউনিয়নের নয়া কান্দি গ্রামে ধনাগোদা নদীর পাড় ঘেঁষে অবস্থিত মেসার্স মোহাম্মদীয়া লেয়ার ফার্মে ট্রলারে করে এসে ডাকাতির অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে ১০ থেকে ১২ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ফার্মে প্রবেশ করে স্টাফদের মারধর, অফিস ও সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর এবং নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন ফার্ম কর্তৃপক্ষ।ফার্মের স্টাফ জিলানী জানান, রাত ৩টার দিকে ডাকাত দল ফার্মে এসে প্রথমে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় অস্ত্রের মুখে তাদের জিম্মি করা হয়। পরে একজন স্টাফকে শর্টগান দিয়ে আঘাত করে মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়। ফার্মে থাকা নগদ টাকা, মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যায় তারা। জিলানী আরও বলেন, ডাকাতরা যাওয়ার আগে তাদের ১০ মিনিটের মধ্যে ফার্ম ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য হুমকি দেয়।ফার্মের মালিক মো. রাসেল দেওয়ান বলেন, শুক্রবার রাত ৩টা থেকে সাড়ে ৩টার মধ্যে নদীপথে ট্রলারযোগে একদল ডাকাত ফার্মে হামলা করে। তারা স্টাফদের হাত-পা বেঁধে অস্ত্রের মুখে মারধর করে। পরে অফিস কক্ষে ঢুকে ম্যানেজার ও স্টাফদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে অফিসের ক্যাশ থেকে ৪৫ হাজার টাকা এবং তার মানিব্যাগে থাকা ৮ হাজার টাকা নিয়ে যায়।তিনি অভিযোগ করেন, ডাকাতরা তার এক স্টাফকে পিস্তলের বাট দিয়ে আঘাত করে মাথা ফাটিয়ে দেয়। এ সময় হামলাকারীদের সবার কাছেই পাইপগানের মতো শর্টগান জাতীয় অস্ত্র ছিল। যাওয়ার সময় তারা স্টাফদের হুমকি দিয়ে বলে, তারা যেন ফার্মে কাজ না করে চলে যায় এবং মালিককে বলে ব্যবসা বন্ধ করতে। রাসেল দেওয়ান আরও বলেন, হামলাকারীরা ফার্মের সিসিটিভি ক্যামেরা ও ডিভাইস ভাঙচুর করে নিয়ে গেছে। পাশাপাশি ফার্মের স্টাফদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও নিয়ে যায়।তিনি বলেন, এখন এখানে ব্যবসা করা খুব কঠিন হয়ে গেছে। আমার স্টাফদের অস্ত্রের মুখে হুমকি দিয়ে বলা হয়েছে, তারা এখানে থাকলে পরবর্তীতে এসে তাদের মেরে ফেলা হবে এবং মালিককে ব্যবসা বন্ধ করতে বলতে হবে। রাসেল দেওয়ান আরও জানান, এ ঘটনায় তিনি মতলব উত্তর থানায় অভিযোগ করেছেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য, পুলিশ সুপার ও মতলব উত্তর থানার পুলিশের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন তিনি।এদিকে, এ ঘটনায় মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল হাসানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।মতলব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) জাবির হুসনাইন সানীব বলেন, বিষয়টি মতলব উত্তর থানার ওসি আমাকে জানিয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এসেছে। ভুক্তভোগীর কাছ থেকে বিস্তারিত জানার জন্য থানায় নেওয়া হয়েছিল। আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: ইসমাইল খান টিটু।
কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত খবরের দর্পন